চিরনিদ্রায় পপ কিংবদন্তি নিল সেডাকা: শেষ হলো একটি সুরের যুগ।
চিরনিদ্রায় পপ কিংবদন্তি নিল সেডাকা: শেষ হলো একটি সুরের যুগ।   ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বিশ্বসংগীত কাঁপানো কিংবদন্তি পপ গায়ক, গীতিকার ও সুরকার নিল সেডাকা আর নেই। গেল  ২৭ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী গানের স্রষ্টা। তার প্রয়াণে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে একটি সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

সেডাকার পরিবার এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিয় স্বামী, পিতা এবং পিতামহের আকস্মিক প্রয়াণে আমরা বিধ্বস্ত। তিনি ছিলেন রক অ্যান্ড রোলের একজন প্রকৃত কিংবদন্তি এবং লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণা। তবে আমাদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ, তার এই শূণ্যতা অপূরণীয়।’

তবে এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


১৯৩৯ সালে নিউ ইয়র্কে জন্ম নেওয়া নিল সেডাকা শৈশব থেকেই ধ্রুপদী সংগীতে তালিম নেন। নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের বাসিন্দা সেডাকা বিখ্যাত জুলিয়ার্ড স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি ‘দ্য টোকেনস’ নামে একটি ডু-ওয়াপ গ্রুপ গঠন করেন। কিশোর বয়সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলে গান লিখে প্রথম সাফল্যের দেখা পান তিনি। ১৯৫৮ সালে তার লেখা ‘স্টুপিড কিউপিড’ গানটি গেয়েছিলেন কনি ফ্রান্সিস, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে পপ সংগীতের দুনিয়ায় পা রেখে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। কেবল গায়ক হিসেবেই নয়, একজন অসাধারণ পিয়ানোবাদক এবং সুরকার হিসেবেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ষাট দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘ব্রিটিশ ইনভেসন’ (যুক্তরাজ্যের ব্যান্ডগুলোর দাপট)-এর কারণে সেডাকার জনপ্রিয়তা কিছুটা ম্লান হলেও সত্তর দশকে তিনি রাজকীয়ভাবে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে তার লেখা ‘লাভ উইল কিপ আস টুগেদার’ গানটি বিলবোর্ড টপ টেন চার্টে স্থান করে নেয়। এছাড়া তিনি বিশ্বখ্যাত শিল্পী এলটন জনের রেকর্ড লেবেলের হয়েও বেশ কিছু অ্যালবাম প্রকাশ করেন।

পাঁচবার গ্র্যামি মনোনয়ন পাওয়া এই শিল্পী কেবল পপ গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ২০১২ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে পিয়ানো কনসার্টে পারফর্ম করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল মিউজিক বাজানো তার আত্মার প্রশান্তি দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘নিজের লেখা গান ও সুর নিয়ে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানোটা অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি অনুভূতি। আমি এই পথটিই বেছে নিয়েছি এবং এতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।

তার কালজয়ী কিছু সৃষ্টির তালিকা

সেডাকার অসংখ্য গানের মধ্যে যে গানগুলো কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে:

১. ‘Oh! Carol’ (১৯৫৯) – যা তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।
২. ‘Breaking Up Is Hard to Do’ – এই গানটি দুই ভিন্ন দশকে (৬০ ও ৭০) ভিন্ন ভিন্ন ঢঙে চার্টে শীর্ষস্থান দখল করেছিল।
৩. ‘Calendar Girl’ – পপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় একটি গান।
৪. ‘Laughter in the Rain’ – সত্তরের দশকে তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গান।
৫. ‘Happy Birthday Sweet Sixteen’।

নিল সেডাকা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৫০০-এর বেশি গান লিখেছেন এবং সুর করেছেন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘লং আইল্যান্ড মিউজিক হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হন এবং সংগীতে বিভিন্ন সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেন।

তার এই প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে ভক্ত এবং সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুরের ভুবনে তিনি বেঁচে থাকবেন তার অনন্য সব সৃষ্টির মাধ্যমে।

এমআর/আরটিএনএন