ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের প্রভাবে গতকাল রোববার পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়। তবে আজ সোমবার সেই ধারা ধরে রাখা যায়নি। শেয়ার বিক্রির চাপে দিন শেষে দরপতন হয়েছে। এতে সূচক যেমন কমেছে, টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় বিক্রির চাপ বেড়েছে, যার প্রভাবে সূচক নিম্নমুখী হয়েছে। তারা বলছেন, ভোটের আগে টানা দুই দিন এবং ভোটের পর প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টানা তিন কার্যদিবসের উত্থানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় কিছু বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ালে বাজারে মূল্য সংশোধন দেখা দেয়।
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক প্রায় ২০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধির ফলে বাজার মূলধন ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়ে। পাশাপাশি পাঁচ মাস পর হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের দেখা মেলে। সোমবার লেনদেনের শুরুতে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ৫০ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে লেনদেনের প্রথম আধাঘণ্টা পার হওয়ার পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়লে বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদাম কমে গিয়ে দাম কমার তালিকা বড় হয়ে যায়।
বিক্রির চাপ থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল সক্রিয়। ফলে এদিনও লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।
দিন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের, কমেছে ২১৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দাম। এর মধ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত বেড়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৪টির শেয়ারদাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১১টির কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে, ৪৮টির কমেছে এবং ৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪২টির দাম বেড়েছে, ৫৯টির কমেছে এবং ৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৩টির দাম বেড়েছে, ১২টির কমেছে এবং ৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৬ পয়েন্টে নেমেছে।
সব সূচক কমার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে ১৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবার টানা দুই কার্যদিবস হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলো।
লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১৬ লাখ টাকার এবং ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক। এছাড়া এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, একমি পেস্টিসাইড, আইএফআইসি ব্যাংক, রবি, সোনালী পেপার ও শাহজিবাজার পাওয়ার শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় রয়েছে।
অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭ পয়েন্ট বেড়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির দাম বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ২২টির অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
বড় উত্থানের পর দরপতনকে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ডিএসইর এক সদস্য বলেন, টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে বিক্রির চাপ বাড়ায় দরপতন হয়েছে। তবে ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি বাজারের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী আবার বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, টানা উত্থান বা টানা পতন নয়, বরং উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই বাজার এগিয়ে যায়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!