জেনে নিন নিরাপদে কফি পান করার উপায়।
জেনে নিন নিরাপদে কফি পান করার উপায়।   ছবি: সংগৃহীত

অনেকের সকাল শুরুই হয় এক কাপ কফির সুবাসে। কারও কাছে এটি ঘুম ভাঙানোর অব্যর্থ অস্ত্র, আবার কারও জন্য কাজের ফাঁকে প্রয়োজনীয় এনার্জি বুস্ট। তবে কফি যেমন স্বস্তি এনে দেয়, তেমনি কিছু মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হতে পারে বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে।

উচ্চ রক্তচাপে কেন সতর্ক থাকা জরুরি?

কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে সাময়িকভাবে উদ্দীপিত করে। এটি অ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে হৃদস্পন্দন দ্রুত হয় এবং রক্তনালির সংকোচন ঘটে। এর প্রভাবে অল্প সময়ের জন্য রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত কফি পান করার ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে সবাই একইভাবে প্রভাবিত হন না ব্যক্তিভেদে ও জীবনযাপনের ওপর এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও যেভাবে কফি পান করতে পারেন....

কফি পুরোপুরি বাদ না দিয়েও সচেতনভাবে পান করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন:
কফি খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা বা অস্বস্তি অনুভূত হলে বুঝতে হবে শরীর সাড়া দিচ্ছে। প্রয়োজনে কফি খাওয়ার আগে ও পরে রক্তচাপ মেপে দেখতে পারেন। সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

সময় বেছে নিন:
দুপুরের আগেই কফি পান শেষ করার চেষ্টা করুন। বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি খেলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিমাণে সংযম রাখুন:
সুস্থ ব্যক্তিরা দিনে কয়েক কাপ কফি পান করতে পারলেও, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে দৈনিক ১–২ কাপের বেশি না খাওয়াই নিরাপদ।

অতিরিক্ত চিনি ও ক্রিম এড়িয়ে চলুন:
কফির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, দুধ বা ক্রিম যোগ করলে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। তুলনামূলকভাবে ব্ল্যাক কফি শরীরের জন্য কম ক্ষতিকর।

সচেতনতা থাকলে প্রিয় কফির স্বাদ উপভোগ করেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

 

সিমু/আরটিএনএন