কঙ্গো, আফ্রিকা, খনি ধস
গত ২৮ জানুয়ারি খনিধসের ঘটনাটি ঘটে।   ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে একটি কোলটান খনি ধসে অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির রুবায়া এলাকায় অবস্থিত খনিটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট প্রদেশের বিদ্রোহী–নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুয়িসা শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৮ জানুয়ারি খনিধসের ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চললেও নিহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রাদেশিক প্রশাসনের এক উপদেষ্টা জানান, নিশ্চিতভাবে মৃতের সংখ্যা অন্তত ২২৭ জন। নিহতদের মধ্যে খনি শ্রমিক ছাড়াও শিশু এবং আশপাশের বাজারে কাজ করা নারীরাও রয়েছেন। ধসে পড়া খনি থেকে বহু মানুষকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

রুবায়া খনি থেকে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান সরবরাহ হয়। এই খনিজ থেকে ট্যান্টালাম উৎপাদন করা হয়, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশ প্রযুক্তি ও গ্যাস টারবাইন তৈরিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। স্থানীয় দরিদ্র মানুষ প্রতিদিন মাত্র কয়েক ডলারের বিনিময়ে এই খনিতে কাজ করেন।

২০২৪ সাল থেকে খনিটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম–২৩–এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘের অভিযোগ, খনির সম্পদ লুট করে বিদ্রোহী কার্যক্রমে অর্থ জোগাচ্ছে এম–২৩, যা প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডার সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে। তবে রুয়ান্ডা সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভারী অস্ত্রধারী এম–২৩ বিদ্রোহীরা গত বছর আকস্মিক অভিযানের মাধ্যমে পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চল দখলে নেয়। তারা রাজধানী কিনশাসার সরকার উৎখাত এবং কঙ্গোর তুতসি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা