সৌদি আরব, উট, পাসপোর্ট, প্রাণীসম্পদ, তাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি,
সৌদি আরবে উটের জন্য চালু হচ্ছে পাসপোর্ট   ছবি সংগৃহীত

সৌদি আরবে উটের জন্য বিশেষ পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও আরও কার্যকর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে এটি মানব পাসপোর্টের মতো আন্তর্জাতিক যাতায়াতের উদ্দেশ্যে চালু করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় উটের জন্য পাসপোর্ট চালুর ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, দেশের উটসম্পদকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনতে এবং প্রাণীসম্পদ খাতে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

রুশ বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উটের পাসপোর্ট চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো একটি আধুনিক ও সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা, যেখানে প্রতিটি উটের পরিচয়, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং মালিকানার বিস্তারিত সংরক্ষণ করা যাবে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন।

মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উটের পাসপোর্ট হবে একটি সরকার অনুমোদিত পরিচয়পত্র। এতে উটের জাত, বয়স, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং মালিকের বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাসপোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে প্রতিটি উটের টিকাদান সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড, যা প্রাণীটির জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মেডিকেল ফাইল হিসেবে কাজ করবে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উটের মধ্যে সংক্রামক রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণের ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে, যা সামগ্রিকভাবে প্রাণিসম্পদ খাতের নিরাপত্তা জোরদার করবে।

এ ছাড়া উটের পাসপোর্ট চালু হলে মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতাও অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। মালিকানা যাচাই সহজ হওয়ায় উট ক্রয়-বিক্রয় ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে। পাশাপাশি পশুপালনকারীরা প্রজনন পদ্ধতি উন্নত করতে এবং উন্নত জাত সংরক্ষণে এই তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে পারবেন।

সৌদি আরবে উট শুধু একটি গৃহপালিত প্রাণী নয়; এটি দেশটির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে উটের জন্য পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালুর এই উদ্যোগকে প্রাণিসম্পদ খাতে আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।