গাজা, ফিলিস্তিন, হামাস, ইসরায়েল
জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাবে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে   ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপগুলো কার্যত "ফিলিস্তিনি জনগণের ভূমি দখল বা সংযুক্তিকরণের (annexation) সামিল"।

আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর প্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের এই "অবৈধ" প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে "সংগঠিত" হচ্ছে।

মনসুর বলেন, "আমরা আশা এবং প্রত্যাশা করি যে শক্তিশালী অংশীদাররা... আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের ইচ্ছাকে লঙ্ঘন করে ইসরায়েলকে এভাবে পার পেয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখবে।" রবিবার ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এমন কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে যা ইসরায়েলিদের জন্য ফিলিস্তিনি জমি দখল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সরাসরি সম্পত্তি কেনা সহজ করবে। একই সঙ্গে সেখানে ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সেখানে বসতি স্থাপন করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, দখলদার শক্তি তাদের নিজস্ব বেসামরিক জনসংখ্যাকে অধিকৃত অঞ্চলে স্থানান্তর করতে পারে না।

জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাবে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) রায় দেয় যে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি এবং "এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শাসনব্যবস্থা" আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

'ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি'

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সাথে সংযুক্ত করা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা প্রতিরোধ করা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো মন্ত্রী এলি কোহেন মঙ্গলবার বলেন, পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার এই পদক্ষেপগুলো ওই অঞ্চলের ওপর "কার্যত সার্বভৌমত্ব" বা ডি ফ্যাক্টো (de facto) সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠারই নামান্তর।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের জন্য দেশটির বিরুদ্ধে কোনো অর্থবহ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা এখনো দেখা যায়নি। মঙ্গলবার মনসুর ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের দাবির প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সমর্থনের কথা তুলে ধরেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে ফিলিস্তিন "একা নয়"।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমাদের আরব বিশ্বের সমর্থন আছে, মুসলিম বিশ্বের সমর্থন আছে এবং আমাদের আরও অনেক বন্ধু রয়েছে যারা এই নির্দিষ্ট ইস্যুতে তাদের অবস্থান জানাতে এগিয়ে আসবে।" জাতিসংঘে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আহমেত ইলদিজ অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর একটি বিবৃতি পড়ে শোনান, যেখানে ইসরায়েলি পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়।

তিনি বলেন, "ওআইসি গ্রুপ অবৈধ ইসরায়েলি সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপগুলোর তীব্র নিন্দা জানায়। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অবৈধ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়া, বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে সুসংহত করা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা তৈরি করা।"

"আমরা মনে করি যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের অনুসৃত সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং অবৈধ পদক্ষেপগুলো এই অঞ্চলে কেবল সহিংসতা ও সংঘাতকেই উসকে দেবে।" যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সফরের কয়েক দিন আগেই পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার এই পদক্ষেপ নিল ইসরায়েল। বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর। ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে অধিকৃত পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের বিরোধিতা করেছিলেন।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই