ট্রাম্প, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
মার্চেই ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা চুক্তি হবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প। যদি না হয়, তাহলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।   ছবি: সংগৃহীত

মার্চেই ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা চুক্তি হবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প। যদি না হয়, তাহলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।


গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় সামনের মাসে (মার্চ), এমন সময়ের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হবে।”


“আমাদের অবশ্যই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। নয়তো যা ঘটবে তা হবে খুব ভয়ঙ্কর,। আমি এমনটা চাই না, কিন্তু আমাদের একটা সমঝোতা চুক্তি করতেই হবে এবং এক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। যদি তারা না এগোয় তাহলে ফের অপারেশন মিডনাইট হ্যামার শুরু হবে এবং এবার এই অপারেশন হবে আরও ভয়াবহ।”


ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।


২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তারই ধারাবাকিতায় ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়েই ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনা করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।


তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।


এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরো বাড়তে থাকে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী সরকার নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমন করার অভিযোগ এনে ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারির মাঝামাঝি ইরানে বিক্ষোভ শান্ত হলে, ট্রাম্পও আর অভিযানের নির্দেশ দেননি।


কিন্তু একই সময়ে, অর্থাৎ জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিশাল আকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিচ্ছে।


গত জানুয়ারির শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, প্রধান ইস্যু ইরানের পরমাণু প্রকল্প। এ বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে মাস্কাটে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক এখন পর্যন্ত ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে।


সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


রায়হান/আরটিএনএন