পদত্যাগ করলেন দুবাইভিত্তিক বন্দর ও লজিস্টিকস কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম। দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ইমেইল যোগাযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তিনি সরে দাঁড়ালেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চাপের মুখে সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম সরে দাঁড়ান বলে জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন নথিতে দেখা যায়, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সুলাইয়েম ও এপস্টেইনের মধ্যে ইমেইল আদান–প্রদান হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিবিসি সুলাইয়েমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
শুক্রবার ডিপি ওয়ার্ল্ড ঘোষণা দেয়, এসা কাজিমকে চেয়ারম্যান এবং যুবরাজ নারায়ণকে প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির বিবৃতিতে সুলাইয়েমের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ওয়েবসাইট থেকেও তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানানো হয়।
দুবাই সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ছয় মহাদেশে বন্দর টার্মিনাল পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক সময়ে অংশীদারদের চাপ বাড়ছিল। যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ও কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেনশন তহবিল ‘লা কাইস’ নতুন বিনিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দেয়। প্রিন্স অব ওয়েলসের আর্থশট প্রকল্প, যা ডিপি ওয়ার্ল্ডের অর্থায়ন পেয়েছিল, সেটিও যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনে অভিযোগের মুখে পড়ে।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্না ও থমাস ম্যাসিই সুলাইয়েমকে এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় প্রভাবশালী ব্যক্তির একজন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, ২০০৯ সালের একটি ইমেইলে ‘টর্চার ভিডিও’ প্রসঙ্গ ছিল, যেখানে প্রাপক হিসেবে পরে সুলাইয়েমের নাম সামনে আসে।
বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০০৭ সাল থেকেই এপস্টেইনের সঙ্গে সুলাইয়েমের যোগাযোগ ছিল। ভ্রমণ পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক ধারণা এবং দুবাই থেকে ‘ইসলামিক’ ডিজিটাল মুদ্রা চালুর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। ২০১৩ সালের এক ইমেইলে এপস্টেইন সুলাইয়েমকে ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুদের একজন’ বলে উল্লেখ করেন।
নথিতে নারী–সম্পর্কিত আলাপের উল্লেখও রয়েছে, যদিও প্রেক্ষাপট সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যোগাযোগে এপস্টেইন মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। লন্ডন গেটওয়ে বন্দর প্রকল্পে সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নথিতে আরও বলা হয়, সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারাক, ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এপস্টেইন। ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ গ্রহণ করা উচিত কিনা, সে বিষয়ে এপস্টেইনের কাছে পরামর্শও চেয়েছিলেন সুলাইয়েম।
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন।
সূত্র: বিবিসি
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!