রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির বিরল এক কংগ্রেস শুরু করেছে। প্রতি পাঁচ বছরে একবার অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেসে পিয়ংইয়ংয়ের নেতৃত্ব প্রতিরক্ষা, কূটনীতি এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রধান নীতি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করবে। শুক্রবার কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া (ডব্লিউপিকে)-এর নবম কংগ্রেস শুরু হয়েছে। এটি ২০২১ সালের পর দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
কেসিএনএ জানায়, "বিপ্লবের রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ডব্লিউপিকে-এর নবম কংগ্রেস শুরু হয়েছে।" উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকটি বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে এবং পর্যবেক্ষকরা বলছেন এটি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, এই সমাবেশে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের কোনো ইঙ্গিত কিংবা সিউল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতি কোনো বার্তা আছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। উত্তর কোরিয়া এই দুই দেশকে তাদের প্রধান শত্রু মনে করে।
ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের উদ্বোধনী ভাষণে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি; বরং তিনি দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার ওপর জোর দিয়েছেন।কেসিএনএ অনুযায়ী কিম বলেন, "আমাদের দলের সামনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দেশের সামাজিক জীবনের সব দিক যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন করার মতো ভারী ও জরুরি কাজ রয়েছে।"
উত্তর কোরিয়ার প্রায়ই ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা পরিমাপ করা কঠিন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, বাইরের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কোভিড-পরবর্তী সময়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তার জন্য অস্ত্র রপ্তানির ফলে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার উত্তর কোরিয়ান সেনা রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং পিয়ংইয়ং প্রতিবেশীর ওপর রাশিয়ার আগ্রাসনে সহায়তার জন্য প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ রপ্তানি করেছে।
উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল, তারা এই কংগ্রেস পর্যবেক্ষণ করছে এই দেখার জন্য যে, কিম তার কিশোরী মেয়ে কিম জু-এইকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেন কি না। এমনটি হলে কিম পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের উত্তরাধিকারী হিসেবে তার অবস্থান পাকাপোক্ত হবে। এএফপি জানিয়েছে, পাঁচ বছর আগের গত দলীয় কংগ্রেসে কিম যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেশের ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্সির মধ্যে কিম তার সুর নরম করবেন নাকি আরও কঠোর হবেন—তা নিয়ে গভীর আগ্রহ রয়েছে।
২০১৯ সালে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ায় অল্প সময়ের জন্য পা রেখেছিলেন এবং কিমের সঙ্গে করমর্দন ও ছবি তোলার জন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। গত বছরের শেষ দিকে এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি কিমের সঙ্গে আবারও দেখা করতে ‘শতভাগ’ আগ্রহী। তবে এখন পর্যন্ত কিম ট্রাম্পের আবারও সাক্ষাতের প্রস্তাব এড়িয়ে গেছেন।
উত্তর কোরিয়ার রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা পিয়ংইয়ংয়ে আগের কংগ্রেসগুলোর সময় অনুষ্ঠিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের কোনো লক্ষণ আছে কি না, তা দেখার জন্য স্যাটেলাইট চিত্রগুলো খুঁটিয়ে দেখছেন। এ ধরনের কুচকাওয়াজগুলোতে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সক্ষমতায় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত আছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কারণ অতীতে দেশটি তাদের নতুন ও সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র প্রদর্শনের জন্য এসব কুচকাওয়াজ ব্যবহার করেছে।
কংগ্রেস শুরুর দিন বৃহস্পতিবার কিম পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ৫০টি নতুন লঞ্চ ভেহিকল বা উৎক্ষেপণ যানের মোতায়েন উন্মোচনের জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। ইয়োনহাপের তথ্যমতে, এই কংগ্রেসে সারা দেশ থেকে প্রায় ৫,০০০ দলীয় প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ডব্লিউপিকে-এর সদর দপ্তরের ২০০ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক ও শিল্প খাত থেকে ৪,৭০০-এর বেশি কর্মকর্তা উপস্থিত রয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!