পাকিস্তানে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র, জারি হয়েছে নিরাপত্তা সতর্কতা।
পাকিস্তানে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র, জারি হয়েছে নিরাপত্তা সতর্কতা।   ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটসহ পাকিস্তানের সকল ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই স্থগিতাদেশ শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর সংবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে করাচি কনস্যুলেটে বিক্ষোভকারীরা হামলার চেষ্টা চালালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। 

উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল ধরণের ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই এই বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানে বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে। গত রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও বিভিন্ন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার (২ মার্চ) ভোরের আগে উত্তরাঞ্চলের গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলের গিলগিত, স্কারদু ও শিগার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। এসব এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।
উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে সাতজন গিলগিতে প্রাণ হারান। অপরদিকে একজন চিকিৎসক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্কারদুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া দেশটির বন্দরনগরী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হন। রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে যাওয়ার পথে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন।

সূত্র: আলজাজিরা

এমআর/আরটিএনএন