২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখবে বিশ্ব।
২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখবে বিশ্ব।   ছবি: সংগৃহীত

আজ রাতের আকাশে দেখা যাবে এক চমৎকার ও বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য। ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মহাকাশপ্রেমী ও বিজ্ঞানীদের জন্য এটি বছরের অন্যতম সেরা আকর্ষণ, কারণ এরপর দীর্ঘ সময় আর এমন দৃশ্য দেখা যাবে না।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন চাঁদ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যাবে না। বরং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে প্রতিফলিত সূর্যালোকের কারণে চাঁদ এক মায়াবী লালচে বা তামাটে রঙ ধারণ করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ অবস্থাকে ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তাভ চাঁদ বলা হয়।

২০২৬ সালে এটিই একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। আজকের পর এমন মহাজাগতিক দৃশ্য পুনরায় উপভোগ করতে দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত। ফলে আজকের এই দৃশ্যটি মহাকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। তবে টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলার থাকলে চাঁদের রঙ পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা সম্ভব হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই গ্রহণ বিভিন্ন সময়ে দেখা যাবে।

রোববার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণ গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। এই গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় ও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় গতিপথ হবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে। এছাড়াও এটি কিমম্যান রিফ জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হুল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং ফিলিপাইন সাগরে অবস্থিত মাইক্রোনেশিয়ার কোসরাই দ্বীপ ও লুগাও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে দৃশ্যমান হবে।


বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণ শুরুর সময় নিম্নরূপ:

ঢাকা: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ১২ সেকেন্ড।

চট্টগ্রাম: বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড।

সিলেট: বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।

রাজশাহী: সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড।

খুলনা: সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড।

বরিশাল: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড।

ময়মনসিংহ: সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড।

রংপুর: সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে উপচ্ছায়া হতে চাঁদের নির্গমনের মাধ্যমে গ্রহণটি পুরোপুরি শেষ হবে।

এমআর/আরটিএনএন