সৌদি আরব, বোমা হামলা
মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাংবাদিক টাকার কার্লসন।   ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

সৌদি আরব ও কাতারে বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাংবাদিক টাকার কার্লসন।

সোমবার (২ মার্চ) নিজের অনুষ্ঠানে কার্লসন বলেন, উপসাগরীয় যেসব দেশ ইরানের হামলার শিকার, সেখানে ইসরায়েল কেন বোমা হামলার পরিকল্পনা করবে—এ প্রশ্ন উঠছে। তার ভাষ্য, ‘যেসব পারস্য উপসাগরীয় দেশ ইরানের হামলার শিকার, সেখানে ইসরায়েল কেন বোমা বসাবে? তারা কি একই পক্ষে নয়?’

কার্লসনের অভিযোগ, ইসরায়েল ইরানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতসহ বিভিন্ন আরব দেশেও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো হচ্ছে।

তবে সৌদি আরব, কাতার বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কার্লসনের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলের সমালোচনা করায় হেনস্তার অভিযোগ

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি-এর সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কার্লসন ও তাঁর টিমের সদস্যদের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করেছিলেন বলে জানা যায়।

ওই সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, ইহুদিদের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের ‘ঐশ্বরিক অধিকার’ রয়েছে এবং তিনি ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিচয় অস্বীকার করেন। এর আগে অনলাইনে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা হয়। কার্লসন খ্রিস্টানদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণকে ‘জঘন্য’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলা

কার্লসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এসেছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ৭০০ ড্রোন ও শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ৫০০টির বেশি মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

গত সোমবার সৌদি আরবের রাস তানুরায় অবস্থিত আরামকোর তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনায় আগুন লাগে। এই হামলার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করা হলেও তেহরান বলেছে, তারা সৌদির তেল স্থাপনায় কোনো হামলা চালায়নি।

একই দিন কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের একাধিক জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই