ইরান, সাংবাদিক
ইরানে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান সম্প্রচার কেন্দ্র (আইআরআইবি)-এর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভিন এলাকা, যেখানে আইআরআইবি এবং কুখ্যাত এভিন কারাগার অবস্থিত, সেখানে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছরই ইসরায়েলি হামলায় এভিন কারাগারে কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হন।

কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ এবং সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে চুপ করানোর চেষ্টা করছে। ইরানের ইন্টারনেট প্রায় বন্ধ থাকায় সীমান্তবর্তী কিছু মানুষ প্রতিবেশী দেশ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পেরেছেন। সাধারণ মানুষকে ভিপিএন ব্যবহার করতে হচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, ইরানে বিদেশি সাংবাদিকদের কাজ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তারা সাধারণত সরকার অনুমোদিত সহায়তাকারীর সঙ্গে কাজ করেন এবং বড় শহরের বাইরে যেতে হলে আগে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। প্রেস ভিসা এবং অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম একেবারেই সীমিত। অনুমোদনের বাইরে গেলে সতর্কবার্তা বা দেশের বাইরে যেতে বলা হতে পারে।

তবে তেহরান থেকে কিছু বিদেশি গণমাধ্যম সম্প্রচার করছে। এর মধ্যে রয়েছে কাতারভিত্তিক আল জাজিরা, সৌদি আরবের আল আরাবিয়া, বৈরুতভিত্তিক আল মায়াদিন এবং রাশিয়ার আরটি আরবিক। এছাড়া ইরানের নিজস্ব চ্যানেল আল আলাম টিভিও আরবিতে সম্প্রচার করছে।

বড় জাতীয় উদযাপনের সময় ইরান সাময়িকভাবে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়, তবে শর্ত কঠোর থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসলামিক বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী কভার করতে ২০০–র বেশি বিদেশি সাংবাদিক ও ক্যামেরা ক্রু অংশগ্রহণ করেছেন। তবে তাদের রিপোর্টে মূলত সরকার অনুমোদিত বর্ণনা প্রতিফলিত হয়।

ইরান থেকে সাংবাদিকরা রিপোর্ট করতে পারেন, তবে কেবল রাষ্ট্রের শর্তাবলীর মধ্যে। এর ফলে তথ্য প্রাপ্তি ও সংবাদ তৈরিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি প্রভাব ফেলছে।

ছবিতে দেখা যায়, তেহরানে পুড়ে যাওয়া বাস, সরকারপন্থি সমাবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ। এসবই ইরানি সরকারের অনুমোদিত বর্ণনা হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারে প্রতিফলিত হচ্ছে।