ট্রাম্প ও গালিবাফের প্রতিকী কার্টুন
ট্রাম্প ও গালিবাফের প্রতিকী কার্টুন   ছবিঃ এআই

ইসলামাবাদের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে তেহরান দাবি করছে প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন থেকে নৌ অবরোধের হুমকি আসছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের ঘালিবাফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতে। একই সুরে কথা বলেছেন ডেপুটি স্পিকারও। তেহরানের এই অবস্থান মূলত একটি বার্তা — প্রণালির ওপর কর্তৃত্বের প্রশ্নে ইরান কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উভয় পাশে আটকে আছে হাজার হাজার জাহাজ।

এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন থেকে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত আসছে। জাস্ট দ্য নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের বিকল্প সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। লেক্সিংটন ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রেবেকা গ্র্যান্ট বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষে হরমুজ প্রণালিতে কী যাবে আর কী যাবে না তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এই মুহূর্তে খুব একটা কঠিন নয়। ইরানের খার্গ দ্বীপ পেরিয়ে বা ওমানের কাছের সংকীর্ণ পথ দিয়ে যেতে হলে মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতি নিতে হবে — এমন পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এই কৌশল আগেও ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। নিকোলাস মাদুরোর পতনের আগে নৌ অবরোধ দিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল রাজস্বকে কার্যত শ্বাসরোধ করা হয়েছিল। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী এখন পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে, যেখানে ইতিমধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বেশ কয়েকটি বড় নৌ সম্পদ মোতায়েন আছে।

অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জ্যাক কিনও একই প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল বা ধ্বংস করার বিকল্পও আছে, তবে নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানির লাইফলাইন বন্ধ করে দেওয়াটা কৌশলগতভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে।

ইসলামাবাদ ছাড়ার আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরল বিশ্বাসে আলোচনা করেছে এবং এটিই তাদের "চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব"। এখন সিদ্ধান্ত ইরানের হাতে। ট্রাম্প প্রশাসনের কেন্দ্রীয় দাবি ছিল ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বন্ধ করা, যেখানে এখনো কোনো সম্মতি মেলেনি।

দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে ট্রাম্প বোমা হামলার হুমকি আগেই দিয়েছেন। কিন্তু নৌ অবরোধের বিকল্পটি হামলার চেয়ে কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চীন ও ভারত ইরানের তেলের বড় ক্রেতা — নৌ অবরোধ তাদের ওপরও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করবে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই মুখোমুখি অবস্থান পরিষ্কার করে দিচ্ছে, ইসলামাবাদের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই পক্ষ এখন পরবর্তী চালের অপেক্ষায় আছে। সংঘাত আবার জ্বলে উঠবে কি না, নাকি কূটনীতির নতুন কোনো পথ খুলবে — সেই উত্তরের জন্য বিশ্বকে আরও অপেক্ষা করতে হবে।