নির্বাচন, ঘরমুখো মানুষ, ঈদের আমেজ
হাতে ব্যাগ, মাথায় বস্তা, কোলে শিশু—পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছে লাখো ভোটার   ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-গাজীপুরের মহাসড়কগুলো যেন ঈদের আগের রাত। সোমবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চন্দ্রা, কোনাবাড়ি, নাওজোর, সাভার হয়ে উত্তরবঙ্গ আর দক্ষিণবঙ্গের পথে শুধু মানুষ আর মানুষ। হাতে ব্যাগ, মাথায় বস্তা, কোলে শিশু—পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছে লাখো ভোটার। কেউ বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, কেউবা দল বেঁধে পিকআপে-ট্রাকে চেপে রাতের অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছেন গ্রামের পথে।

এবারের ছুটি সাধারণ মানুষের জন্য তিন দিন। কিন্তু পোশাক কারখানা ও শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা পেয়েছেন পুরো চার দিন। ১৭ বছর পর যেন সত্যিকারের ভোট। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় কেউ। গাজীপুরের কোনাবাড়ির গার্মেন্টস শ্রমিক মাহবুব আলম রাত দশটায় ফোনের ওপার থেকে বললেন, “বহুদিন পর ভোট দিতে পারব। চার দিন ছুটি। কষ্ট হলেও যাবই। গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না, তবু দাঁড়িয়ে আছি। এই ভোটটা আমার জন্য ঈদের চেয়েও বড়।”

চন্দ্রা থেকে উত্তরবঙ্গের পথে ১০-১২ কিলোমিটার লম্বা যানজট। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও একই চিত্র। রাত নামতেই যানজট আরও বেড়েছে। অনেকে হেঁটে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ ট্রাক-পিকআপে উঠে পড়ছেন।

নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বললেন, “শিল্পকারখানায় টানা চার দিন ছুটি। লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে বাড়ি যাচ্ছেন। যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক। কিছু জায়গায় যানজট হচ্ছে, কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি রাস্তা সচল রাখতে। এটা যেন একটা ঈদের ঘরে ফেরা।” পোশোক কারখানার শ্রমিক কাওছার হোসেন হাসতে হাসতে বললেন, “চার দিন ছুটি, ভোটও দেব, গ্রামে বাবা-মা, ভাই-বোনের সঙ্গেও থাকব। সত্যি বলতে কী, ঈদের চেয়েও বেশি আনন্দ লাগছে।”

মঙ্গলবার দিনেও একই চাপ থাকবে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। কারণ যে ভোট আসছে, সেটা শুধু ভোট নয়—এটা অনেকের কাছে ১৭ বছরের অপেক্ষার প্রতিশোধ, স্বাধীনতার স্বাদ, আর একটা নতুন বাংলাদেশের প্রথম পা রাখার দিন। তাই কষ্ট হলেও, যানজটে দাঁড়িয়েও, মুখে হাসি। কারণ এবার ঘরে ফিরছে না শুধু মানুষ—ফিরছে তাদের ভোট, ফিরছে তাদের কণ্ঠ।