ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। তার আগে, গুগল ও স্যোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ।
এরমধ্যে আছে, ইলেকশন ২০২৬, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি ২০২৬, ভোটার স্লিপ বিডি, ভোটার নম্বর চেক অনলাইন, ভোট সেন্টার চেক, ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম। এমন নানা শব্দ গুগলে লিখে ভোটের শেষ মুহূর্তে মানুষ এ সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাচ্ছেন।
গুগল বা সামাজিক মাধ্যমে মানুষ জানতে চেয়েছেন এমন বেশ কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর প্রতিবেদনে দিয়েছে বিবিসি বাংলা।
ইলেকশন ২০২৬
গুগল সার্চের একদম ওপরে রয়েছে এই শব্দটি। জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এরকম আরো কয়েকটি শব্দ দিয়ে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কেই বেশি জানতে চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯ টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১ টি দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১ দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিও এবারই প্রথমবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবার ভোটে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ।
নিবন্ধিত দল হলেও ভোট করছে না এমন আরো কয়েকটি জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ইত্যাদি দল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে এবারের নির্বাচনে।
সারাদেশের আসনভিত্তিক যে ভোটার তালিকা ইসি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার।
এর মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার। এছাড়া হিজড়া ভোটার এক হাজার ১২০ জন।
ভোট কখন শুরু, কখন শেষ?
বাংলাদেশে এর আগে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোতে সাধারণত সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হতো। বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারতেন।
কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
ভোট সেন্টার
অনেক ভোটারই এবার নিজের ভোটকেন্দ্র নিয়ে এখনও সংশয়ে ভুগছেন। অনেকেই গুগলে নিজের ভোটকেন্দ্র কোনটি সেটি বের করতে ভোট সেন্টার চেক, ভোট সেন্টার এমন বেশ কিছু শব্দ দিয়ে তথ্য জানতে চাচ্ছেন। গুগল ট্রেন্ডে দেখা যায়, গত একদিনে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি সার্চ করা হয়েছে সেটি হলো ভোট সেন্টার চেক বিডি বা ভোট কেন্দ্র চেক।
অর্থাৎ ভোটাররা এখনো তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি নিয়ে জানতে চান। এমন ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন এবার অ্যাপ, হটলাইন নম্বর, এসএমএস সেবা চালু করেছে।
এমনকি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়েও ভোটার তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি সম্পর্কে জানতে পারবেন। ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্র নামে একটি অপশন রয়েছে।
সেখানে ভোট কেন্দ্র অনুসন্ধানের জন্য দুইটি তথ্য দিতে হয়। একটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং অপরটি জন্ম তারিখ। এই দুই তথ্য লিখে অনুসন্ধানে ক্লিক করলেই দেখা যায় ভোট কেন্দ্রের তথ্যের বিস্তারিত পাওয়া গেছে।
ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, ভোট কেন্দ্রের নাম এবং কেন্দ্রের অবস্থানও ম্যাপে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬
গুগল ট্রেন্ডের সার্চের একেবারে শুরুর দিকে এই শব্দটি পাওয়া যাচ্ছে। মূলত স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি, একটি অ্যাপ যেটি নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নানা তথ্য পাওয়ার জন্য চালু করেছে।
এই অ্যাপে ঢুকে একজন ভোটার তার ১০ নম্বর অথবা ১৩ নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই তার ভোটকেন্দ্র পেয়ে যাবেন। আবার ভোটার নম্বরও এই অ্যাপে পাওয়া যাবে।
ভোটার নাম্বার বের করার নিয়ম
ভোটার সিরিয়াল নম্বর চেক, ভোটার নম্বর চেক, ভোটার সিরিয়াল নম্বর বের করার নিয়ম জানতে চেয়ে সার্চ করছেন অনেক ভোটার।
এসব তথ্য যাতে ভোটার পূর্ণাঙ্গভাবে পায় সে কারণে নির্বাচন কমিশন নিজেদের ওয়েবসাইট, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি অ্যাপ, এসএমএস, হটলাইন নম্বরে ফোন করে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
যে কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫ এ ফোন করে নিজের ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার নম্বর বের করতে পারবেন। ১০৫ এ ফোন করে অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। পরে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার নম্বর যেমন জানা যাবে তেমনি ভোট কেন্দ্রের নামও জানতে পারবেন ভোটাররা।
ভোটার স্লিপ
গুগল ট্রেন্ডে ঘেঁটে দেখা যায়, ভোটার স্লিপ, ভোটার স্লিপ চেক, ভোটার স্লিপ পিডিএফ ডাউনলোড ২০২৬ এমন শব্দ লিখে ভোটাররা গত সাতদিনে তথ্য খুঁজেছেন। ভোটার স্লিপ হচ্ছে এমন একটি তথ্য সংবলিত কাগজ, যেখানে ভোটারের নামের পাশাপাশি ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্র লেখা থাকে।
বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেখা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার, কাউন্সিলর বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটারের নম্বর, ভোটকেন্দ্র সংবলিত একটি স্লিপ দেয়া হতো।
কিন্তু এই ভোটার স্লিপ আসলে সরকারি কোনো স্লিপ নয়। কিন্তু এবার বেশিরভাগ জায়গাতেই এসব স্লিপ দেয়া হয়নি।
ভোটকেন্দ্রে সেলফি তুলতে পারবো?
অনেক ভোটার আছেন যারা চান স্মৃতি জমিয়ে রাখতে। আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রথমবার দেবেন এমন ভোটাররা হয়তো ছবি তুলে রাখতে চাইবেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়।
পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে এবং ছবিও তোলা যাবে।
কিন্তু কোনোভাবেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। অর্থাৎ ভোটাররা বুথের যে গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন সেখানে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি বা সেলফি তোলার সুযোগ নেই।
মুখের নিকাব খুলতে হবে?
অনেক ভোটার আছেন যারা মুখ ঢেকে পর্দা করেন, তারা কিছুটা শঙ্কায় ভোট দিতে গেলে কী মুখের পর্দা বা নিকাব খুলতে হবে? নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসারের দায়িত্বই হলো ভোটারের চেহারার দিকে তাকানো।
ওই কর্মকর্তার কাছে থাকা ভোটার তালিকার ছবির সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখে তিনি উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ও ভোটার নম্বর বলবেন।
পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক সংবলিত একটি ব্যালট পেপার ও গণভোটের হ্যাঁ, না সংবলিত আরেকটি ব্যালট পেপার দিয়ে আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেবেন নির্বাচনী কর্মকর্তা।
কিন্তু যদি পরিচয় গোপন করে বা ছদ্মবেশে জাল ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন এমন বিষয় প্রমাণ হয় তবে ওই কর্মকর্তা তাকে নির্বাচনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করবেন।
তিনি তখন সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের দায়িত্ব পালন করবেন। এমন অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানাও হতে পারে। রাইড শেয়ারিং অ্যাপে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রী।
নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১০ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের পরদিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে মঙ্গলবার রাত থেকেই বন্ধ রয়েছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল সার্ভিস।
এছাড়া ১১ই ফেব্রুয়ারি, বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই আওতামুক্ত থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সকল ধরনের যানবাহনও চলাচল করতে পারবে।
ভোট কেন্দ্রে বাচ্চা নেয়া যাবে?
সন্তানের বয়স যদি প্রতীক বোঝার মতো না হয় তাহলে যে কোনো মা ভোটার ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষেও ওই সন্তানকে নিয়ে যেতে পারবেন।
কিন্তু যদি প্রতীক বোঝার মতো বয়সী কোনো সন্তান হয় সেক্ষেত্রে ওই সন্তানকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারলেও তাকে বাইরে রেখেই ভোটারকে ভোট কক্ষে ঢুকতে হবে।
গণভোটের ব্যালট ফেলবো কোন বাক্সে?
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি ব্যালটেই একই সঙ্গে ভোট দিতে হবে।
এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের জন্য যে ব্যালট থাকবে সেটি হবে সাদাকালো আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রংয়ের। দুইটি ব্যালট পেপার এক বাক্সে ফেলবেন কিনা এ বিষয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন অনেক ভোটার।
এই বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে।
ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল কখন জানা যাবে এমন প্রশ্ন রয়েছে। কেননা এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ফলে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে সময় বেশি লাগবে সেটি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্র থেকে গণনার পরে সেই ফলাফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়। সেখান থেকে সেটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়। এরপর সেখান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন কে?
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেদিন (পাঁচই ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন।
অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা চায় উল্লেখ করে মি. নজরুল জানিয়েছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথের সম্ভাবনা বেশি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!