পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে— বিএনপির অভিযোগ
পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে— বিএনপির অভিযোগ   ছবি: আরটিএনএন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহিংসতা নিয়ে বিএনপি অভিযোগ করেছে, নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এসব অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সংগ্রামের পর আজকের নির্বাচন হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। 

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল গতকাল রাত থেকে অনেক জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস কিছু ঘটনা সৃষ্টি করেছে। তবে জনগণ সচেতনভাবে এগুলো প্রতিহত করেছে।

মাহ্দী আমিন এই ঘটনাগুলোকে নির্বাচনি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই ভোট দিয়েছেন। ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবেন।

তবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দেশব্যাপী কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নোয়াখালীর হাতিয়া ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভোটের ধীরগতি এবং অনিয়ম দেখা গেছে। 

মাহ্দী আমিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে, ভোটগ্রহণ দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, ভোট জনগণের নাগরিক অধিকার এবং সবাইকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার অংশ হতে হবে। 

মাহ্দী আমিন শেষ পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ সারাদিন ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের অধিকার প্রয়োগ করলে ইনশাল্লাহ যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব।

এছাড়া তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সারাদেশে প্রায় ৪৩ হাজার কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। জনগণ যাতে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে, সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।