ভোক্তা-অধিকার
মানববন্ধন করেছেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ।   ছবি: আরটিএনএন

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজারে অভিযানে বাধা প্রদান ও মার্কেট বন্ধ করার হুমকির প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার অভিযানে বাধা প্রদানের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের সকল ভোক্তার অধিকার রক্ষায় জনাব জব্বার মন্ডল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু ঢাকার চকবাজারের মৌলভী বাজারস্থ ব্যবসায়ীক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভূট্টো সরকারি কার্যক্রমে অনৈতিকভাবে বাধা প্রদান করেন। তার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনগণ ক্ষুব্ধ । 

আমরা ক্যাবের পক্ষ থেকে সারাদেশে জেলা শহরে প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি  মানববন্ধন শেষে বাণিজ্য,শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরবার স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

উক্ত মানববন্ধনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক জনাব রুহিন হোসেন প্রিন্স তার বক্তৃতায় বলেন, নব নির্বাচিত সরকারের নিকট ব্যবসায়ী মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য ও মব সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। 

ক্যাবের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সামছ্ এ খান (অব:) বলেন, দেশের ১৮ কোটি জনগণ সকলেই ভোক্তা, ব্যবসায়ীরাও ভোক্তারই একটি অংশ। নতুন সরকারের কাছে তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য জনাব শওকত আলী খান সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজার তদারকিতে যারা বাধা প্রদান করেছে তাদের ব্যাবসায়িক লাইসেন্স বাতিল করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। 

বাংলাদেশ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, একজন সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যেভাবে মব সৃষ্টি করে অগ্রাহ্য করা হয়েছে তাতে সাধারণ ভোক্তাদের কি পরিস্থিতি হবে তা বিবেচ্য বিষয়। নতুন সরকারের প্রতি বাজার নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানান।

ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা মানতে চান না। তারা সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের পকেট কাটেন। তিনি সরকারের নিকট ভোক্তাদের ঠকানোর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দাবি জানান। 

মানববন্ধনে নিম্মক্তো দাবি সমূহ উত্থাপন করা হয়:
আমাদের দাবিসমূহ :

১. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে বাধা প্রদান ও মার্কেট বন্ধের হুমকির সঙ্গে জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দ্রুত, কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. বাজারে তদারকিমূলক অভিযান নির্বিঘœভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অস্বচ্ছ লেনদেন ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

৪. ব্যবসায়ীদের পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ ক্যাশ মেমো সংরক্ষণ ও প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করে এর ব্যত্যয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতসহ ঢাকাসহ সারা দেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।ৃ