এফবিসিসিআই প্রশাসক
এফবিসিসিআই প্রশাসক   ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালেও দেশে চাঁদাবাজি ছিল না-এমন দাবি করা যাবে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। তিনি বলেন, চাঁদাবাজিকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না; এটি সমাজের একটি অসুস্থতা, যা দূর করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলের ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে নির্বাচন পরবর্তী উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অত্যাবশ্যকীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

রাজনীতিতে চাঁদাবাজির কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে আবদুর রহিম খান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে রাজনীতির সঙ্গে চাঁদাবাজির সম্পর্ক। কিন্তু গত ১৮ মাস দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল না তখন কী চাঁদাবাজি হয়নি? তার মতে, চাঁদাবাজদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নেই। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন-এর চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আব্দুল জলিল এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া।

‘নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ শব্দবন্ধের প্রসঙ্গ টেনে এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, বিষয়টি শুধু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে কিংবা বাজার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত না হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয় না। তিনি স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছু স্থবিরতা ছিল এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি সক্রিয় ছিল না। এ কারণেই এ ধরনের আলোচনা সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

আইনশৃঙ্খলা ও বাজার ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক কার্যকারিতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলেও মত দেন আবদুর রহিম খান। তার ভাষায়, সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। জনগণের আস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যও গতি পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চাঁদাবাজি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। কয়েকটি থানায় অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ইতিবাচক প্রচেষ্টা। তবে এক রাতেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় এমন বাস্তবতা মেনে নিয়ে ধারাবাহিক ও কাঠামোগত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশাসনিক অভিযান যথেষ্ট নয়; কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি। উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আইন বিশেষ করে রোড ট্রাফিক আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশেও বাস্তবমুখী আইন ও সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ট্যারিফ নীতির প্রসঙ্গ টেনে আবদুর রহিম খান বলেন, শিল্পায়নের স্বার্থে এসব নীতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও বাধার মুখে না পড়েন।

সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে, চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূল হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি স্থিতিশীল ও আস্থাশীল পরিবেশ গড়ে উঠবে।