চট্টগ্রাম, অভিযান
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।   ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরে অপরাধ দমনে একযোগে ১০টি স্থানে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ১০টি দলে ভাগ হয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের ভাষায়, একই সময়ে একাধিক স্থানে পরিচালিত এ ধরনের অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ বা সংক্ষেপে ‘এস ড্রাইভ’।

এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, মহানগর এলাকায় অপরাধীদের আস্তানা, অস্ত্র ও মাদকের সম্ভাব্য সব স্পটে সিএমপির কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, “একটি স্থানে অভিযান চালালে অন্য জায়গায় থাকা অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতে ওসি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

সম্প্রতি একটি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন আখ্যা দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার বিষয়টিও স্বীকার করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তাদের সম্ভাব্য অবস্থান নগরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায়। সেখানে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অস্ত্রের উৎস প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাইরে থেকে অস্ত্র এনে শহরে প্রবেশের কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। নগরের প্রবেশমুখে নিয়মিত চেকপোস্ট থাকায় অপরাধীরা সে ঝুঁকি নেয়নি বলে ধারণা পুলিশের। বরং শহরের ভেতরেই কোথাও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমন কয়েকটি সম্ভাব্য স্পট শনাক্ত করে সেখানে একযোগে অভিযান চলছে।

আসামিদের পরিচয় ও অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রগুলো পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে।