বিদ্যুৎ সংকটে মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।
বিদ্যুৎ সংকটে মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।   ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তারেক রহমান কাজের শুরুতেই তিনি তাঁর কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন। এছাড়া এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫.১ মাত্রায় নিয়ে আসেন, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অত্যন্ত কার্যকর।

তিনি সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেন। একই সঙ্গে তিনি সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দফতরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।

শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগের পরে তাঁর দফতরের সব কক্ষে তাৎক্ষনিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারাদেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপনী বিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়ি-ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্যও সকলকে পরামর্শ দেন।

রুমন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীকে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আর কী করণীয় আছে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে বলেছেন।”

প্রধানমন্ত্রী কেবল সরকারি পর্যায়েই নয়, বরং সারাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীকে বার্তা দিয়েছেন যে, জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ব্যক্তিগত সচেতনতা সবার আগে জরুরি। দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় অপচয় রোধে তাঁর এই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ সরকারি-বেসরকারি সকল মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।