দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে খালের পাড়ে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হলো। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার বিমানবন্দর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুরে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরে যান তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সেখানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে বিকেলে দিনাজপুরের শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে গিয়ে তিনি তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বিকেল পাঁচটায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। তখন সারা দেশে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়েছিল। স্থানীয় জনগণকে সরাসরি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিও চালু করা হয়েছিল।

এই উদ্যোগ মূলত বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।