ইউজিসি চেয়ারম্যান এসএমএ ফায়েজের পদত্যাগ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান এসএমএ ফায়েজের পদত্যাগ।   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ পদত্যাগ করেছেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পদত্যাগপত্রে অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ০৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পেয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে যোগদান করি। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আমি কমিশনের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করছি।

‌‘এমতাবস্থায়, আমার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনাপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম উপাচার্য পদে সাময়িক নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়টির মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এ অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন আচার্য ও রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ তাকে এ নিয়োগ দেন। উপাচার্য হিসেবে সাময়িক সময়ের জন্য নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘ ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এর আগে ড. ফায়েজ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ষষ্ঠ চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৩ সালের ৭ মার্চ থেকে ১৯৯৮ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউজিসির চেয়ারম্যান পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই অধ্যাপক ফায়েজ পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, অধ্যাপক ফায়েজ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তবে বয়সজনিত কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদারকিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছিলেন না। ইউজিসির অভ্যন্তরে নানা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণেও তিনি প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর হতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।