গণপরিবহণ, যানবাহন, বাড়ি ফিরছে
খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন হাজারো মানুষ।   ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। তবে দৃশ্যমান কোনো যানজট না থাকলেও গণপরিবহণ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। বাধ্য হয়ে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এমন চিত্র দেখা যায়।

পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের নগরজালফৈ বাইপাস, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অনেকে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভ্যাপসা গরম ও ধুলাবালিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বগুড়াগামী যাত্রী মুক্তার হোসেন বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করেও কোনো পরিবহণ পাচ্ছেন না। পরিবার নিয়ে যাত্রা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।

অন্যদিকে রাজশাহীগামী আয়েশা শারমিন অভিযোগ করেন, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ভাড়া ১০০ টাকা, সেখানে এখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়ছেন।

বগুড়াগামী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আজগর আলী জানান, বাসে সিট তো দূরের কথা, দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ট্রাক ও পিকআপে যাতায়াত করছেন।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যানজট এড়াতে সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রেকারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কালিহাতী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।