ঈদ-উল-ফিতর
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়।   ছবি: আরটিএনএন

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের বার্তা। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই উৎসবকে ঘিরেই শুরু হয় নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের চিরচেনা ব্যস্ততা। জীবিকার তাগিদে শহরে থাকা লাখো মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে ছুটছেন গ্রামের বাড়ির দিকে। রাজধানী ঢাকা ও বড় শহরগুলো থেকে শুরু হয়েছে এই বার্ষিক জনস্রোত।

স্টেশনে স্টেশনে উৎসবের আমেজ

রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাতে ব্যাগ, নতুন পোশাক আর মুখে বাড়ি ফেরার হাসি—সব মিলিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘ পথযাত্রার ক্লান্তি থাকলেও প্রিয়জনের মুখ দেখার প্রতীক্ষায় সেই কষ্ট ম্লান হয়ে যাচ্ছে যাত্রীদের কাছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও নিরাপত্তার শঙ্ক দেখা দিচ্ছে

অনেক ক্ষেত্রে টিকিট পেতে ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলছেন যাত্রীরা। সড়কপথে দীর্ঘ যানজট এবং ট্রেন-লঞ্চের সময়সূচি ঠিক না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অনেককে। অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং চালকদের ক্লান্তির কারণে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

"সরকার, পরিবহন মালিক ও যাত্রী—সবাই সচেতন হলে এই ঈদযাত্রা হতে পারে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময়।"

ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে কঠোর হতে হবে। মহাসড়কের গর্ত মেরামত ও টোল প্লাজায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করলে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো ও অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠা বন্ধ করতে হবে।

নিরাপদ ভ্রমণে যাত্রীদের প্রতি পরামর্শ

ঝুঁকি নিয়ে বাস বা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করবেন না। অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। ভ্রমণে প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সাথে রাখুন। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।

স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রাকে একটি সুন্দর স্মৃতিতে রূপান্তর করা সম্ভব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পূর্ণতা পাক ঈদের প্রকৃত আনন্দ।