৪ হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচানো গেল না ১০ মাসের শিশুটিকে
সোহা মনির মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছেন স্বজনরা।   ছবি: আরটিএনএন

মাদারীপুর থেকে ঢাকায় একের পর এক চারটি হাসপাতাল ঘুরেও শেষ রক্ষা হয়নি ১০ মাস বয়সী শিশু সোহা মনির। হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুটি অবশেষে ১০ এপ্রিল রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের রেসপিরেটরি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আরআইসিইউ) মারা যায়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, টিকা জটিলতা, চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা এবং সময়মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এ প্রতিবেদকের কাছে পরিবার জানায়, ২৬ মার্চ সোহা অসুস্থ হলে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসককে দেখানো হয়। ২৯ মার্চ মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার খোঁজে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

ঢাকায় আনার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও কোথাও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়নি বলে দাবি স্বজনদের। পরে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে অন্য হাসপাতালে নিতে বলা হয়।

পরবর্তীতে সোহাকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালেও নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৯ এপ্রিল আবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউট–এ ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তাকে বাঁচানো কঠিন হবে। ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির মা লিমা আক্তারের অভিযোগ, হামের টিকা না পাওয়ার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, তিনবার টিকা কেন্দ্রে গিয়েও টিকা না পেয়ে পরে হাসপাতালে গেলেও সেখান থেকেও সেবা পাননি।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ব্যয়ে ইতিমধ্যে তিন লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। গরু বিক্রি, গয়না বিক্রি এবং ধারদেনা করে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়।

শিশুটির চাচা রাশেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে আইসিইউ সংকট, ভেন্টিলেটর না থাকা এবং রোগী রেফার করার প্রবণতার কারণে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়েছে। 

তিনি বলেন, “এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতেই আমাদের সন্তানকে হারাতে হলো।”

অন্যদিকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের এক চিকিৎসক স্বীকার করেন, ছোট শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর সুবিধা তাদের হাসপাতালে সীমিত, যা একটি বাস্তব ঘাটতি।

শিশুটির মৃত্যু নিয়ে পরিবার যেমন শোকাহত, তেমনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।