নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করার অভিযোগে ফেনী-৩ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিনকে শোকজ করেছেন সংশ্লিষ্ট আসনের অনুসন্ধানকারী ও বিচারিক কর্মকর্তা সাজ্জাতুন নেছা।
শনিবার মোহাম্মদ ফখরুদ্দিনের কাছে লিখিতভাবে শোকজ নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন আইন সহায়তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক লিগ্যাল কমিটির অভিযোগ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যবহৃত পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে তিনি নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করছেন। অথচ তার দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামায় এ ধরনের কোনো পদবি উল্লেখ নেই। বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়েও ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৭৭ (৩) (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ অবস্থায় কেন তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অপরাধ আমলে নেওয়া হবে না অথবা পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শোকজ নোটিশে আগামী রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ফেনীর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে অবস্থিত কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, সরকার অনুমোদিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ডিগ্রি হলো BHMS (Bachelor of Homoeopathic Medicine & Surgery) করেছি আমি। আমি ডিগ্রি যথাযথভাবে অর্জন করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এটি একটি আইনসম্মত ও রাষ্ট্রস্বীকৃত যোগ্যতা। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী, BHMS ডিগ্রিধারী যেকোনো ব্যক্তি তার নামের আগে “ডাক্তার (Dr.)” পদবি ব্যবহার করতে পারবে এবং তা সম্পূর্ণ আইনগতভাবে বৈধ ও অনুমোদিত। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আইনগত নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজেকে MBBS বা এলোপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিচ্ছি ততক্ষণ “ডাক্তার (Dr.)” পদবি ব্যবহার আইনসিদ্ধ। সুতরাং, কেবলমাত্র “ডাক্তার” পদবি ব্যবহারের অভিযোগ এনে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা আইনগতভাবে ভিত্তিহীন, অজ্ঞতাপ্রসূত এবং টেকসই নয়।
নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপি প্রার্থীর জিডি
এদিকে একই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দাগনভূঞা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় তার পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ শামছুদ্দিন থানায় জিডিটি দায়ের করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া বাজারে জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী সভায় দলটির নেতা মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়, ওই বক্তব্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতি নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, মেজবাহ উদ্দিন সাঈদসহ জামায়াতের বিভিন্ন নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
এতে আবদুল আউয়াল মিন্টু মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে আইনগত সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বিএনপির মনোনীত ফেনী-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। তিনি দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!