পরিবারতন্ত্র রাজতন্ত্রের চেয়েও নিকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতেও পরিবারতন্ত্রের মাধ্যমে দাস প্রথার মতো শাসন চালু রয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল রাইটস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের নতুন চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
গোলটেবিলের সভাপতিত্ব করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুর রব।
বৈঠকে ড. মোশারফ হোসেন বলেন, ছাত্র-জনতা এবং রাজনৈতিক দলগুলো দেশের জনগণকে শাসনতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদ ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি এই অঙ্গীকার থেকে অনেকটা সরে এসেছে।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের মনে নতুন আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু দেড় বছর পর সেই আশা ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদী মনোভাব, পরিবারতন্ত্র এবং অর্থপাচারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর ফলে জনগণের অধিকার পদতলে পিষ্ট হয়েছে, জনগণের সম্পদ দখল হয়েছে, প্রতিবাদী মানুষের কণ্ঠ হিটলারের ন্যায় দমন করা হয়েছে এবং পাবলিক ট্রেজারিকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে লুট করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানব সভ্যতার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাজতন্ত্র সবচেয়ে নিকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা। পরিবারতন্ত্র তার চেয়েও জঘন্য এবং নিকৃষ্ট। তারেক রহমান আবার সেই পরিবারতন্ত্রের আইকন হওয়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে প্রতিবেশী দেশ এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া—সহ পৃথিবী পরিবারতন্ত্রকে কবরস্থ করেছে।
ড. মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০১–২০০৫ সালের ক্ষমতার সময় কুখ্যাত হাওয়াভবন সৃষ্টি করা, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যে জড়িত থাকা, আরাফাত রহমান কোকো ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু গংদের সঙ্গে মিলে ৮০ মিলিয়ন ডলার পাচার, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে হাজার কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, শাপলা চত্বর আন্দোলন দমন, বিএনপিকে গুটিয়ে দেওয়া, বিচারের পূর্বেই আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদি নেতা ও কর্মীদের দলে সম্পৃক্ত করা, দলের নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও কমিশন বাণিজ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে স্বাধীনতাবিরোধী ও গুপ্তসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে রক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে, জাতীয় পর্যায়ে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!