নির্বাচন
নির্বাচনে রুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)।    ছবি সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভোটগ্রহণ চলাকালে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বাধা, ব্যালট ছিনতাই ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটায় বাংলামোটরে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তারা এই নির্বাচন বয়কট বা প্রত্যাখ্যান করবেন। 

মনিরা শারমিন বলেন, ‘ঢাকা-১৮ আসনের উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টরা দলীয় কার্ড ঝুলিয়ে ভোটকক্ষে অবস্থান নেন, যা নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী। একই আসনের খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জে জান-ই-আলম স্কুল কেন্দ্রে নারী ভোটারদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও ওঠে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে এক কক্ষে একাধিক পোলিং এজেন্ট থাকার অভিযোগ সম্প্রচারিত হয়েছে গণমাধ্যমে। নিয়ম অনুযায়ী, একটি কক্ষে একজন প্রার্থীর পক্ষে একজন পোলিং এজেন্ট থাকার বিধান রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে পোলিং এজেন্টের অনুপস্থিতিতে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  আর এই অভিযোগ সত্য হলে এর দায় দায়িত্ব তারেক রহমানকে নিতে হবে।’ 

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এনসিপি প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর পোলিং এজেন্টকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পাবনা-১ আসনেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে এনসিপি প্রার্থী মো. আতাউল্লাহর চিফ এজেন্টকে জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

নোয়াখালীর ঘটনা তুলে ধরে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই সদস্যসচিব বলেন, ‘নোয়াখালীর হাতিয়ায় সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ এসেছে। সেখানে এনসিপি প্রার্থী হান্নান মাসউদের স্ত্রী ও ভাইকে মারধর এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। একই এলাকায় সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুন্সীগঞ্জ-৩ ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জে দুই আনসার সদস্যসহ এক শিশু আহত হয়েছে। শেরপুর-১ আসনে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে সিল মারা শতাধিক ব্যালট উদ্ধার করা হয়। ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে একাধিক ভোটার অভিযোগ করেন, কেন্দ্রে গিয়ে তারা জানতে পারেন তাদের ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। টাঙ্গাইল-৮ আসনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালটে নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল মেরে দিচ্ছেন; এমন অভিযোগও তোলা হয়। পিরোজপুর-৩ আসনে জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ জানানো হয়, সোনারগাঁওয়ে ভুয়া পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি, নাটোর ও যশোরে সাংবাদিক ও সমর্থকদের ওপর হামলা, গাজীপুরে নারী ভোটারদের মারধর এবং মেহেরপুরে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার ও এজেন্টদের বাধা দেয়া হয়েছে। 

রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত দায়িত্বশীল আচরণ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন মনিরা শারমিন।  প্রার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।