৬৪ আসনে জয় পেল জামায়াত
৬৪ আসনে জয় পেল জামায়াত।   ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফল আসতে শুরু করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সারাদেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৪ আসনে জয় পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টায় ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২৪টি আসনের ঘোষিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বেসরকারি সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, জামায়াত এখন পর্যন্ত ৬৪টি আসনে জয় পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এখনো ৩০০ আসনের পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে নির্বাচনে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করে দেড় শতাধিক আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত করেছে বিএনপি। এককভাবে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন হয় ১৫১টি আসন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি ও তাদের জোট ১৬১টি আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে।

বিএনপির উৎসবমুখর বিজয়বিএনপির এই বিশাল বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে বড় ধরণের কোনো সহিংসতা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। 

বাকি আসনগুলোর ফলাফল ঘোষণা এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী বিএনপির আসন সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার বিকেলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও গেজেট প্রকাশিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায়। দেশের ২৯৯টি আসনে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

তবে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী ওই আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, গণনার সময় প্রথমে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পৃথকভাবে দুই ধরনের ব্যালট গণনা করবেন।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।

ভোটের দিন সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কেন্দ্র দখল ও জালভোটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কিছু জায়গায় হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। খুলনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এক বিএনপি নেতা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোতায়েনের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোথাও ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।