নির্বাচন
জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।   ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা খুশি তো, আমরা খুব খুশি, আব্বা। আমার আব্বা আসছে, সৎ লোক আসছে’—মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে জড়িয়ে ধরে কথাগুলো বলছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সানজিদা তুলির মা হাজেরা খাতুন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহীনবাগে বিএনপি প্রার্থী সানজিদা তুলির মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।

সানজিদা তুলি গুমের শিকার বিএনপি নেতা সাজেদুল হক সুমনের ছোট বোন। তিনি গুমবিরোধী সংগঠন মায়ের ডাকের সংগঠক। বলপূর্বক গুমের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানের পর ফিরে আসেন মীর আহমাদ।

সানজিদা তুলির পরিবারের সঙ্গে মীর আহমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। যদিও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সানজিদা তুলি।

সানজিদা তুলির মায়ের সঙ্গে দেখা করে মীর আহমাদ বলেন, ‘আমি যখন গুম থেকে বের হয়ে আসি, আমার পরিবারের কাছে জানতে চাই, তোমরা কেমন ছিলে? সবার আগে তাঁদের কাছে যে নাম শুনতে পাই, সেটি হলো মায়ের ডাক। পরিবারের সঙ্গে যখন কেউ যোগাযোগ রাখেনি, তখন এই মায়ের ডাক, সুমন ভাইয়ের পরিবার যোগাযোগ রেখেছিল।’

মীর আহমাদ বলেন, ‘এই পরিবারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাজনীতির অনেক ঊর্ধ্বে। আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব এই পরিবারের নিকট। আমি আজকে সবার আগে দোয়া নিতে এসেছি।’

এ সময় সানজিদা তুলির মা হাজেরা খাতুন বলেন, ‘এখন আমার সুমনকে বের করতে হবে। এটা আমার আবদার।’

মীর আহমাদ বলেন, ‘সুমন ভাইয়ের গুমের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় নাই। সুমন ভাইয়ের পরিবার সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধীদের নাম জানেন। সুমন ভাইয়ের মতো শত শত পরিবার এখনো জানতে পারেনি তাদের সন্তানের সাথে কী হয়েছে।’

গুমের এই ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘সুমন ভাইয়ের আম্মা এবং বোন মারুফা আপা, আঁখি আপা, তুলি আপা; তাঁরা শুধু বাংলাদেশ না, সারা বিশ্বের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। কীভাবে ফ্যাসিস্টের চোখের দিকে চোখ রেখে অধিকারের কথা বলতে হয়, সেটা এই মায়ের ডাক এবং মায়ের ডাকের প্রতিষ্ঠাতা সুমন ভাইয়ের আম্মা দেখিয়েছেন।’