নির্বাচন
বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী শরিফুজ্জামান শরীফ।   ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিরল রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী শরিফুজ্জামান শরীফ-এর মিষ্টি খাওয়া ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এই দৃশ্য এলাকাবাসীর মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। 

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় শরীফুজ্জামান শরীফের নিজ বাসভবনে ছুটে যান অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সেখানে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে একে অপরকে অভিনন্দন জানান দুই নেতা। নির্বাচন-পরবর্তী সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ে তারা জানান, দলীয় বিভেদ ভুলে আগামী দিনে চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবেন। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় যেন উভয় দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের সংঘাত, হানাহানি বা প্রতিহিংসায় জড়িয়ে না পড়েন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুই নেতা মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী চুয়াডাঙ্গা গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

তারা বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তা কখনোই সামাজিক বিভাজন বা সহিংসতার কারণ হতে পারে না। বরং সুস্থ, মানবিক ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রাজনীতির মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, পৌর জামায়াত নেতা হাসিবুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম বকুল, সাধারণ সম্পাদক মামুন, জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মফিজ জোয়ারদার, দারুস সালামসহ বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরও এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগ চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।