বহু বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোট বড় ধরনের সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারিগরি ও প্রশাসনিক দিক থেকে নির্বাচন পরিচালনায় অগ্রগতি দেখা গেলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবেশ এখনও ভঙ্গুর ও নড়বড়ে রয়ে গেছে।
আইআরআইয়ের পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রার্থীদের আইনগত পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশদ বিশ্লেষণ ও সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে আইআরআইয়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেস সদস্য ডেভিড ড্রেয়ার, যিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্য একজন সদস্য। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে।
ড্রেয়ার উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রেক্ষাপটে এবারের ভোটের দিনটি সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন শেষ হলেও এখন শুরু হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন দায়িত্ব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’-এ উল্লেখিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
ড্রেয়ার বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সেগুলো দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে কাজ করে। জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে গণতান্ত্রিক রূপান্তর আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার এ ধরনের ইতিবাচক মূল্যায়ন বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর বৈশ্বিক আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!