যুক্তরাষ্ট্র,  ডলার, পরিকল্পনা,
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণে ৩৮৩০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণ ও বিদ্যমান স্থাপনা সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টম এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। একটি সরকারি নথির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters জানিয়েছে, এ উদ্যোগে প্রায় ৩৮৩০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, আইসিই প্রথম ধাপে ১৬টি বিদ্যমান ভবন কিনে সেগুলো সংস্কার করবে। এসব স্থাপনাকে আঞ্চলিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ জন পর্যন্ত অভিবাসীকে অস্থায়ীভাবে রাখা যাবে। সাধারণত তিন থেকে সাত দিনের জন্য তাদের এখানে রাখা হবে যেখানে পরিচয় যাচাই, নথি প্রক্রিয়াকরণ ও প্রাথমিক আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে আরও ৮টি বড় আটককেন্দ্র চালু করার কথা বলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে গড়ে সাত হাজার থেকে ১০ হাজার জন পর্যন্ত অভিবাসীকে প্রায় ৬০ দিন পর্যন্ত রাখা সম্ভব হবে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ কার্যক্রমের জন্য এগুলোকে ‘প্রধান অবস্থানস্থল’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ যেসব অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য এসব কেন্দ্র ব্যবহৃত হবে।

এ ছাড়া পরিকল্পনায় রয়েছে ১০টি ‘টার্নকি’ (আগে থেকেই ব্যবহৃত ও প্রস্তুত) কেন্দ্র দখল করে নেওয়া, যেখানে আইসিই ইতোমধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন কাঠামোর আওতায় চুক্তিভিত্তিক বেসরকারি আটককেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বা অধিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। এতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আটককেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা পরিষেবা, ক্যান্টিন, দর্শনার্থীদের জন্য লবি, বিনোদন এলাকা, ডরমিটরি এবং আদালত কক্ষসহ পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো থাকবে। আইনি সহায়তা ও ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরিকল্পনাটি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অনুমোদিত একটি ব্যয় প্যাকেজ থেকে অর্থায়ন পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে অনিয়মিত অভিবাসন বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।