শিবির নেতা, ছাত্রদল
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রশিবির।   ফাইল ছবি

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের পরে তোরা এখনও হলে থাকিস’-এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় ছাত্রদল রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও রামদা নিয়ে চালানো এই হামলায় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মূলত ক্যাম্পাসগুলোতে পুনরায় দখলদারিত্ব ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেই তারা এই রক্তক্ষয়ী পথ বেছে নিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা যখন একটি সুস্থ ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির প্রত্যাশা করছে, তখন ছাত্রদল তাদের পুরোনো নেতিবাচক ও দখলদারির চরিত্রে ফিরে এসেছে। নির্বাচনের পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের পর থেকেই সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ধর্ষণ, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, হাটবাজার দখল, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়েছে তারা।

‘একদিকে সারা দেশে চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ ও অব্যাহত জননিপীড়নে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ ও বিপর্যস্ত; অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে পুনরায় ছাত্রলীগীয় কায়দায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে সশস্ত্র হামলা ও হল দখলের নোংরা মহড়া চালানো হচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন বরাবরের মতোই নিস্পৃহ ও আজ্ঞাবহ দাসের ভূমিকা পালন করছে।’

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভয় দেখিয়ে বা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলে ছাত্রশিবিরকে শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা অসম্ভব। ছাত্রশিবির সবসময়ই ইতিবাচক ও ছাত্রবান্ধব রাজনীতির চর্চা করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অগ্রসৈনিক হিসেবে কাজ করে যাবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা হল দখলের খায়েশ মেটাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবন বলি হতে দেওয়া হবে না। আদর্শিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে যারা অস্ত্রের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। শিক্ষার্থীদের দোয়া ও ভালোবাসাই আমাদের মূল শক্তি, যা কোনো পেশিশক্তির কাছে কখনোই মাথানত করবে না।

আমরা অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে এই দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। প্রশাসনকে সতর্ক করে বলতে চাই, আপনারা যদি অপরাধীদের রক্ষা করার পুরোনো চাটুকারিতা পরিহার না করেন, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে। 

নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।