ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির ভেতরে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হতে পারে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মেয়াদ এক বছর। সে অনুযায়ী বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এর ধারাবাহিকতায় ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাড়ে তিন মাস আগে গত ১৪ নভেম্বর ২৪২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘ সময় পর নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় বেশ কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে। দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য তালিকায় প্রধানত ২০১৩–১৪, ২০১৪–১৫ এবং ২০১৫–১৬ সেশনের নেতারা বেশি আলোচনায় রয়েছেন।
২০১৩–১৪ সেশন থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান।
২০১৪–১৫ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম কাউসার, সাইফ খান এবং ফেরদৌস আলম।
এছাড়া ২০১৫–১৬ সেশন থেকেও কয়েকজন নেতা সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বজলুর রহমান বিজয় এবং ঢাবি ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী।
অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নবীন সেশন থেকেও কয়েকজন নেতা নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৬–১৭ সেশন থেকে ঢাবি ছাত্রদলের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান এবং প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া ২০১৭–১৮ সেশন থেকেও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক, ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ, মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান এবং আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক বলেন, যারাই নেতৃত্বে আসুক আমরা চাই সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রেখে সংগঠনকে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝেও গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলবে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী নেতৃত্ব হতে হবে মেধাবী, সৎ, সাহসী ও আদর্শিক। যারা ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাহসী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে তারাই হবে আগামী দিনের প্রকৃত ছাত্রনেতৃত্ব।
মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক বলেন, বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির আতুরঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি হবে এই প্রত্যাশা। যারা শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার প্রতিফলনের মাধ্যমের সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে ভূমিকা রাখতে পারবে তাদের নিয়েই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হোক।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘জনপ্রিয়তা, শিক্ষার্থীদের চাহিদা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি নিষ্ঠা—সবকিছু বিবেচনা করেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ‘সুপার ফাইভ’-এ থাকা এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিগত কঠিন সময়ে যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদেরই নতুন কমিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!