মুশফিকুর রহিম
মুশফিকুর রহিম   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করায় সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে ফ্লাইট স্থগিতের কারণে বর্তমানে তিনি জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরান-এর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান ও কারাজ এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে একাধিক দেশের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বেশ কিছু রুট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই উমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার কথা ছিল মুশফিকুর রহিমের। তিনি সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুবাই হয়ে ঢাকায় ফেরার জন্য জেদ্দা থেকে ফ্লাইটে রওনা দিলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেই ফ্লাইট পুনরায় জেদ্দায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করা হলে তিনি হাজারো যাত্রীর সঙ্গে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।

শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে মুশফিক লেখেন, সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। আমি কয়েকদিন আগে উমরাহ হজের জন্য মক্কায় এসেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমার হজ (উমরাহ) শেষ করেছি এবং আজ দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। আমরা আজ সকালে জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ফ্লাইটে রওয়ানা হয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে সমস্ত ফ্লাইট জেদ্দায় ফিরে এসেছে। এখন আমি আরও হাজার হাজার যাত্রীর সঙ্গে জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছি। একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন আমরা অন্যান্য বাংলাদেশিদের সঙ্গে কখন এবং কীভাবে ঢাকা পৌঁছাতে পারব। সবশেষে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ইরানের পাল্টা হামলার পর সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৬০ জনের বেশি। স্থানীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর জানান, হামলার সময় বিদ্যালয় ভবনের ভেতরে প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল এবং নিহতদের অধিকাংশই কন্যাশিক্ষার্থী। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।