ক্রিকেট, ওয়েস্টইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, টি-টোয়েন্টি, বিশ্বকাপ,
ওয়েস্টইন্ডিজ ক্রিকেট দল।   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় ভারত ছাড়তে পারছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল–এর খেলোয়াড়রা। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও আয়োজক দেশ ভারতেই আপাতত আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল অবস্থান করছে কলকাতায়, আর জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলকে রাখা হয়েছে দিল্লিতে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে আকাশপথে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ব্যাহত হচ্ছে। কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে সুপার এইটের শেষ ম্যাচ খেলার পরই দেশে ফেরার কথা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের, কিন্তু ফ্লাইট জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। ফলে দলটিকে সেখানেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ শেষে জিম্বাবুয়ে দলও দেশে ফিরতে না পেরে দিল্লিতে বিশেষ ব্যবস্থায় অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলে বিদায় নেওয়া পাকিস্তান ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কলম্বো হয়ে লাহোরে ফিরেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল বা বিকল্প রুটে পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্রমবিকাশমান পরিস্থিতি’ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিসিয়াল, সম্প্রচারক ও ইভেন্ট–সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপদ ভ্রমণ ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, টুর্নামেন্ট পরিচালনার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও অধিকাংশ দল নিজ দেশে ফেরার ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হাব বিমানবন্দর—বিশেষ করে দুবাইয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন হাবের মাধ্যমে বিকল্প রুট নিশ্চিত করতে বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে কাজ করছে আইসিসির ট্রাভেল ও লজিস্টিকস টিম। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরামর্শকেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দেশনা দিচ্ছেন। একটি বিশেষ ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্কও চালু করা হয়েছে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন শেষ পর্যায়ে। ৪ ও ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল, আর ৮ মার্চ হবে ফাইনাল।

আরবিএ/আরটিএনএন