নির্বাচন
জেন-জির প্রথম ভোটযাত্রা।   ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যাচ্ছে দেশের মানুষ। আর এই নির্বাচনে বড় একটি অংশ জুড়ে আছে জেন-জি প্রজন্ম যাদের অনেকেই প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা, কৌতূহল আর সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তটি ধরে রাখার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেকে ভাবছেন সেলফি তোলার কথা। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রথমে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয় ইসি। পরবর্তী সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট ও সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন এবং ছবি তুলতেও পারবেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, কোনোভাবেই গোপন কক্ষ বা বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন নেওয়া বা ছবি তোলা যাবে না। অর্থাৎ যেখানে ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান করা হবে, সেই গোপন কক্ষে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এছাড়া সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার করার সুযোগও সীমিত রাখা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে সেলফি তোলার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো ভোটের গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২২০ জন।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

ডিজিটাল যুগের তরুণ প্রজন্ম হিসেবে জেন-জিরা অভ্যস্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ভাগাভাগি করতে। তবে প্রথম ভোটের স্মৃতি ধরে রাখতে চাইলে তাদের মনে রাখতে হবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করাই সবার আগে। নিয়ম মেনে অংশ নিলেই গণতন্ত্রের এই উৎসব হবে আরও সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ।

ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা জেন-জি প্রজন্ম নির্বাচনের আগে সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সরব। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও এক্সে (সাবেক টুইটার) তারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করছে, ভোট নিয়ে সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করছে, এমনকি বন্ধুদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বানও জানাচ্ছে। আগের প্রজন্ম যেখানে রাজনৈতিক আলোচনায় তুলনামূলকভাবে সংযত ছিল, সেখানে জেন-জিরা অনেক বেশি খোলামেলা ও দৃশ্যমান।

বিশেষ করে এবার প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে কেবল নাগরিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি ‘মাইলস্টোন মুহূর্ত’। অনেকেই প্রোফাইল ছবি বদলাচ্ছেন, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে স্টোরি দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ভোটের আগে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে লাইভ আলোচনাও করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার তরুণ ভোটারদের আগ্রহ স্পষ্টভাবে বেড়েছে। রাজনৈতিক ইস্যু, প্রার্থী পরিচিতি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সবকিছু নিয়েই তারা অনলাইনে তথ্য যাচাই ও আলোচনা করছে। ফলে ভোটের দিন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জেন-জির জন্য এটি অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

তবে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিয়ম মেনে ভোট দেওয়া এটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা যেমন স্মরণীয়, তেমনি সেটি যেন হয় সচেতন ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের উদাহরণ এমনটাই প্রত্যাশা সবার।