নির্বাচন
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের টাকা, কিছু কাগজপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে ।   ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় থেকে টাকা জব্দ করার ঘটনাটি মব সৃষ্টি করে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন।

বুধবার রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি দাবি করেন, টাকাগুলো কর্মীদের সকালের নাশতা ও দুপরের খাবারের জন্য রাখা হয়েছিল।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকার জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই সময় সেখান থেকে গোলাম মোস্তফা নামের এক পোলিং কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাত ১১টার দিকে সখিপুর থানার চরভাগায় নিজ বাড়িতে সম্মেলন ডাকেন শরীয়তপুর ২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন।

তিনি বলেন, আমি আমার আসনে নির্বাচন পরিচালনার জন্য আসন পরিচালক ও শরীয়তপুর জেলার নায়েবে আমির কে এম মকবুল হোসাইনকে দিয়ে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলাম, যা ১৩৬টি কেন্দ্রে আমার নির্বাচনী কর্মীদের সকালের নাশতা ও দুপরের খাবারের জন্য। সে টাকাটা তিনি যখন আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করছিলেন, তখন আমার বিরোধী পক্ষের কিছু লোক সেখানে মব সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের কর্মীদের হেনস্তা করেছে। তখন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের টাকা, কিছু কাগজপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে।

মাহমুদ হোসেন প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা বিচারের প্রতি আস্থাশীল। তবে আমার বুঝে আসে না, এই বিস্তীর্ণ এলাকায় আমি আমাদের কর্মীদের কীভাবে খাবার খাওয়াব। ওনারা নানা রকম মিডিয়া ট্রায়াল এবং অস্বাভাবিক একটি বিষয় হিসেবে নিয়ে আমার এক বন্ধুর কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করেছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে আমি ইনসাফবঞ্চিত হয়েছি। ইলেকশন কমিশনকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আহ্বান জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন শরীয়তপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির কে এম মকবুল হোসাইন।

স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি সূত্র জানায়, নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় খোলেন শরীয়তপুর–২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। সেখান থেকে তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। বুধবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। অভিযানের সময় সেখান থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তখন সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। ওই কার্যালয় থেকে তখন ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে আটক করা হয়। তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে পঞ্চপল্লী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নিযুক্ত ছিলেন।