হুতুম প্যাঁচা, বরিশাল
জঙ্গলের পাশে গাছের নিচে ছোট তিনটি প্যাঁচা উদ্ধার করেছে অ্যানিমেল কেয়ার টিম।   ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারের ভয় আর কুসংস্কারের মাঝে মানুষের মমতায় বেড়ে উঠছে তিনটি হুতুম প্যাঁচা। বরিশালের মহাবাজ এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া এই ছোট্ট বন্যপ্রাণীগুলো এখন নিরাপদ আশ্রয় ও ভালোবাসার ছায়ায় বড় হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে স্থানীয় কিছু বন্ধু মাছ শিকার করতে গিয়ে জঙ্গলের পাশে গাছের নিচে ছোট তিনটি প্যাঁচা দেখেন—উড়তে না পারা, ক্ষুধার্ত এবং শীতে কাঁপছে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের কোলে তুলে নেন। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) উদ্ধারকারী আনন রহমান বলেন, প্রথমে ভয় লাগেছিল, কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি ওরা কাঁপছে। মনে হলো আর বাঁচবে না। তাই ফেলে রাখা সম্ভব হয়নি।

প্যাঁচাগুলো মূলত বন্যপ্রাণী হওয়ায় প্রথমে অ্যানিমেল কেয়ার টিমের মাধ্যমে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বরিশাল সদরের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, বাচ্চাগুলো নিজে থেকে খেতে বা উড়তে পারছে না। ওদের হাতে খাওয়াতে হয়। বড় হয়ে গেলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের সদস্য সৈয়দ রিমেল বলেন, প্যাঁচাগুলোকে নিরাপদে রাখা আমাদের দায়িত্ব। একটু বড় হলে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।

অ্যানিমেল কেয়ার টিমের সাবিত রায়হান জানান, ছোট ছোট টুকরো করে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা শক্তিশালী হচ্ছে, চোখ খুলছে, ভয় কমছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাঁচা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন মানুষের কাছে থাকলে তারা বন্য জীবনের আচরণ ভুলে যেতে পারে। তাই সুস্থ হয়ে ওঠার পর বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়াই মানবিক।

এই তিন প্যাঁচার গল্প মনে করিয়ে দেয়, মানুষের মমতা থাকলেই রাতের পাখিও দিনের আলো পেতে পারে। অন্ধকারের ভয় ভেঙে শুধু ভালোবাসাই বন্যপ্রাণীর প্রকৃত আশ্রয় হতে পারে।

এমকে/আরটিএনএন