জামায়াত প্রার্থী, ইসির সতর্কতা
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেজাউল করিম।   ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেজাউল করিমকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই ধরনের অভিযোগ আবার প্রমাণিত হলে তার প্রার্থিতা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

শনিবার রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইনের সই করা এক চিঠিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

ইসির চিঠিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো, ভোটারের কাছে নগদ অর্থ প্রদান এবং ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য রেজাউল করিমকে সতর্ক করা হয়েছে।

রেজাউল করিম ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একাডেমি রোড এলাকায় মাহফুজা খাতুন (৮৫) নামের এক নারীকে নগদ অর্থ ও ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চান রেজাউল করিম। এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটিতে লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে ২৭ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশন জানায়, রেজাউল করিমের এসব কর্মকাণ্ড ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ৪(১) ও ১৮ বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সতর্কবার্তায় ইসি আরও জানায়, ভবিষ্যতে আচরণবিধি ভঙ্গ করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৯১ক (৬গ) ধারা অনুযায়ী জরিমানা আরোপ কিংবা প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।