র‍্যাব সদস্য, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন র‍্যাবের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।   ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যৌথবাহিনীর অভিযানে সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

নিহত র‍্যাব কর্মকর্তার নাম মোতালেব। তিনি র‍্যাব–৭-এর উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ ও র‍্যাব সূত্র জানায়, রোববার রাতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় সেখানে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ে এবং কয়েকজন র‍্যাব সদস্যকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মোতালেব।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে যৌথবাহিনীর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। তবে তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর এলাকাজুড়ে এ জঙ্গল বিস্তৃত। প্রশাসনিকভাবে এটি সীতাকুণ্ড উপজেলায় পড়লেও এলাকাটি কার্যত নগরের ভেতরেই। এর পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এলাকাটির দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েছে। সম্প্রতি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্র জানায়, গত চার দশকে সরকারি পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। পাহাড় কাটার মাধ্যমে চলমান প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। এসব বাহিনী সার্বক্ষণিক পাহারা দেয় এবং এলাকাবাসীর জন্য রয়েছে আলাদা পরিচয়পত্র ব্যবস্থা। বাসিন্দা ছাড়া বাইরের কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুরের বড়ইতলা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক ও সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সে সময় প্রশাসনের ওপর ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

এছাড়া ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র‍্যাবের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময় হয় জঙ্গল সলিমপুরে। একই বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অবৈধ বসতি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে একাধিকবার পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এমকে/আরটিএনএন