রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেটে ছুরি ঠেকিয়ে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এবং বাকি তিনজনকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কর্মী আরিফ ফয়সালের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত আরিফ ফয়সাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগের শিক্ষার্থী। তার আবাসিক হল কবি জসিমউদ্দিন হল হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৬১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দিনাজপুর-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে গঠিত নির্বাচন সমন্বয় কমিটিতেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা পার্ক সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ও ভুক্তভোগী চার শিক্ষার্থী হলেন— সৌরভ হাসান, মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজ, দিয়ান পারভেজ ও মাহি ইসলাম। তারা সবাই স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজ জানান, তারা উদ্যানের ভেতর দিয়ে রমনার দিকে হাঁটার সময় কয়েকজন যুবক তাদের ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানতে চায়। একপর্যায়ে তাদের বসতে বাধ্য করা হয় এবং কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর শুরু করা হয়।
আরেক শিক্ষার্থী সৌরভ হাসান বলেন, ছিনতাইকারীরা তাদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন তল্লাশি করে। বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট চেক করার পাশাপাশি ফোনের গ্যালারিও খোলা হয়।
দিয়ান পারভেজ অভিযোগ করেন, নিজেদের ‘প্রলয় গ্যাং’ পরিচয় দিয়ে নেশাদ্রব্য দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
.jpg)
ছুরিকাঘাত ও মারধর
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মিফতাহুল শাহরিয়ার নিয়াজকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার চোখ ও কপালে জখম হয় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বাকি তিন শিক্ষার্থীকে গাছের ডাল ভেঙে পায়ে আঘাত করা হয়।
তারা জানান, শুরুতে ছিনতাইকারীর সংখ্যা দুইজন হলেও পরে তা বেড়ে সাতজনে দাঁড়ায়। এর মধ্যে তিনজন সরাসরি নির্যাতনে অংশ নেয়।

অর্থ লেনদেনের তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা এবং হাতে থাকা আরও ১৫ হাজার টাকা—মোট ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়।
পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, জোরপূর্বক ক্যাশআউট করা অর্থটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল এলাকার শাকিলের দোকানের একটি নগদ এজেন্ট নম্বরে পাঠানো হয়।
ঘটনার সূত্র ধরে লেনদেনকৃত দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরটিএনএন। ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ৬ মিনিটে অভিযুক্ত আরিফ ফয়সাল দোকানে আসেন এবং নগদে ক্যাশআউটের বিষয়ে জানতে চান। রাত ৮টা ৮ মিনিটে তিনি ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দোকান ত্যাগ করেন। ভিডিওতে তার মোবাইল ফোনে সমবয়সী পরিচিতদের সঙ্গে কথোপকথনের দৃশ্যও দেখা যায়।

অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে আরিফ ফয়সালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার এক বন্ধু টাকা পাঠানোর জন্য নম্বর চেয়েছিল। সে টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু তখন পুরো ঘটনার বিস্তারিত আমি জানতাম না।
তিনি আরও বলেন, পরে বিস্তারিত জানার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি আমরা ‘সমাধান’ করেছি।
তবে সরাসরি ছিনতাইয়ের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে শেখ মুজিবুর রহমান হলে দেখা করতে বলেন। পরে সেখানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরদিন তার রুমমেট ও হল সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল থেকে তিনি হলে আসেননি। ফোনও রিসিভ করছেন না।
প্রশাসন ও ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। ছিনতাইকারী যে দলেরই হোক, তাদের পুলিশে সোপর্দ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এ ঘটনা সম্পর্কে এখনো অবগত নই। প্রক্টর অফিসে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!