অবশেষে দীর্ঘ চার ঘণ্টা অভিযানের পর উদ্ধার করা হয়েছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া তিন বছর বয়সী শিশুটিকে। উদ্ধারের পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাউজান স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। পড়ে যাওয়া শিশুটির নাম মিসবাহ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামে একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়েছিলো মিসবাহ। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট কাজ করছে করেছে বলে জানানো হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের বড়ুয়া পাড়া এলাকায়। উদ্ধার হওয়া শিশু মিসবাহ ওই এলাকার দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত বসতঘরের কাছাকাছি সুপেয় পানির জন্য সরকারি খরচে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। টিলাভূমি হওয়ায় পানির উৎসের জন্য সেখানে গভীর গর্ত খনন করা হয়। তবে গর্তটি দীর্ঘদিন ধরে অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। খেলতে খেলতে শিশু মিসবাহ ওই গর্তে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী তালেব বলেন, শিশুটি গর্তে পড়ার পর আমরা তার কান্নার শব্দ শুনেছি। কিন্তু গর্তটি খুব গভীর হওয়ায় স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে সে গর্তের আরও নিচে তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাউজান ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। স্থানীয়দের কাছ থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শোনার কথা জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটি গভীর গর্তে পড়ে আটকা পড়েছিল।
এ বিষয়ে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আবদুল মান্নান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করেছে। উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শামসুল আলম জানান, “শিশুটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত আমাদের উদ্ধার তৎপরতা চলমান ছিল।” পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই সন্তানের মধ্যে মিসবাহ সবার ছোট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের লাঠি ব্যবহার করে শিশুটিকে প্রাথমিকভাবে উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে তাকে উদ্ধারে যোগ দেয়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!