মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন নেতাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ‘অপূরণীয় ক্ষতির’ হুমকি দেওয়া হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বড়লেখা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নজমুল ইসলাম (৪৬), বড়লেখা সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আবু হানিফ জাকারিয়া (৩২) এবং গাজীটেকা গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রাজু আহমদ (২৭)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, তালিমপুর ইউনিয়নের বদর উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজারে ‘বদরউদ্দিন স্টোর’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীর আলমের সন্ধানে সেনাবাহিনীর একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তাকে পাওয়া না গেলেও, এর পরদিন থেকেই অভিযুক্তরা যোগাযোগ শুরু করেন।
৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তালিমপুর বড় মসজিদের সামনে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নজমুল ইসলাম ও রাজু আহমদ জানান, যুবদল নেতা আবু হানিফ জাকারিয়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিষয়টি ‘সমাধান’ করা সম্ভব। এজন্য ৩ লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে নজমুল ইসলাম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলে জাহাঙ্গীর আলমকে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন। পরদিন আবারও কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয় এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনজন সহযোগী রয়েছে বলেও জানানো হয়। পুরো কথোপকথন ভুক্তভোগী তার মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি বড়লেখা সেনা ক্যাম্পকে জানানো হলে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে বড়লেখা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. সালমান হোসেন বাদী হয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বড়লেখা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে—দলীয় পরিচয়ের আড়ালে থেকে সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধ কতটা বিস্তৃত এবং এ ধরনের অপতৎপরতার রাজনৈতিক দায়ভার কারা নেবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!