মহিলা জামায়াত, পটুয়াখালী
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু স্বাক্ষর করেন।   ফাইল ছবি

পটুয়াখালীতে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি অপহরণ এবং তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও বিভাগীয় সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। 

তিনি বলেন, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল ইউনিয়ন সেক্রেটারীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর অপহরণ করা হয়। একই সময় তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী—যিনি চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল—তাঁর পেটে লাথি মারা হয়, যা মানবতা ও সভ্যতার ইতিহাসে এক জঘন্যতম দৃষ্টান্ত।

বিবৃতিতে বলা হয়, একজন গর্ভবতী নারীর ওপর এই ধরনের পাশবিক হামলা প্রমাণ করে, হামলাকারীরা ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধও হারিয়ে ফেলেছে। নারীর মর্যাদা, মাতৃত্বের সম্মান এবং অনাগত সন্তানের নিরাপত্তাকে পদদলিত করে সংঘটিত এই সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নূরুন্নিসা সিদ্দীকা অভিযোগ করেন, রাজনীতির নামে সন্ত্রাস, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নারীদের ওপর হামলা কখনোই গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, বিএনপির সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত সকলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে অপহৃত জামায়াত নেতার দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ মুক্তি, আহত দম্পতির যথাযথ চিকিৎসা এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে দেশবাসী, বিশেষ করে নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই নারকীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, আজ যদি সবাই নীরব থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো মা-বোনই নিরাপদ থাকবে না।

বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং ন্যায় ও মানবতার পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।