চট্টগ্রাম বন্দর, সভা-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, কর্মসূচি, নিষিদ্ধ,
চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ   ছবি: সংগৃহীত

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার পর মধ্যরাতে বন্দর এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। 

একই সঙ্গে লাঠি, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথরসহ ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু বহন ও ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য অবহিত করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং দেশের আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে বন্দরের আশপাশের এলাকায়।

পুলিশের ভাষ্য, বন্দর এলাকায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, অবরোধ কর্মসূচির ফলে যানজট সৃষ্টি হয় এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

গণবিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং জনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশ কমিশনারের ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক রাখাসহ জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরসংলগ্ন বারিক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, জেটি গেট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ও বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, দাহ্য পদার্থ, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে এবং যে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ১ মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনি কার্যক্রম এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। তবে বন্দর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এর আগেও চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদারের পর ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একইভাবে মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সিএমপি। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিএমপি কমিশনার এ পর্যন্ত তিন দফায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন।

বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারার বিরোধিতা করে শনিবার শ্রমিক দলের ডাকা আট ঘণ্টার ধর্মঘটে দিনভর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অচল ছিল। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ) রোববার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।