কক্সবাজার, শিশুর মৃত্যু
ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয়রা বদরখালী মাদ্রাসা গেট এলাকায় সড়কের মাঝখানে একটি ডাম্প ট্রাক আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে এমপির গাড়িবহরের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেন।   ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালী-চকরিয়া সীমান্তবর্তী বদরখালী এলাকায় সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের একটি গাড়ির চাপায় খালেদ বিন ওয়ালিদ (৮) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বদরখালী ইউনিয়ন-এর আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।

নিহত খালেদ বিন ওয়ালিদ বদরখালী ইউনিয়নের আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকার প্রবাসী আমান উল্লাহর ছেলে। সে স্থানীয় একটি নুরানি মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। রোববার তিনি কুতুবদিয়া সফর শেষে সড়কপথে পেকুয়া হয়ে চকরিয়ার বদরখালী দিয়ে মহেশখালী ফিরছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তার গাড়িবহরে ৮ থেকে ১০টি গাড়ি ছিল।

ওসি মনির হোসেন বলেন, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে গাড়িবহর আহমদ কবিরের ঘাটা অতিক্রম করার সময় বহরের একটি গাড়ি শিশুটিকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে তার মা সুমাইয়া স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয়রা বদরখালী মাদ্রাসা গেট এলাকায় সড়কের মাঝখানে একটি ডাম্প ট্রাক আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে এমপির গাড়িবহরের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেন। এ সময় এমপিকে বহনকারী গাড়িটি বদরখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত চলে যায়। পরে গাড়িটি ঘুরিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সহায়তায় আটকে পড়া গাড়িগুলো নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

তিনি বলেন, সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির মায়ের আহাজারির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় নিথর পড়ে থাকা শিশুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন মা। বারবার সন্তানের মুখে হাত বুলিয়ে তাকে ডেকে তুলতে চেষ্টা করছেন তিনি।

ওসি মনির হোসেন আরও বলেন, শিশুটিকে চাপা দেওয়া গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ কোনো মন্তব্য করেননি।