হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবরে মেহেরপুরে জ্বালানি তেল মজুদের হিড়িক।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবরে মেহেরপুরে জ্বালানি তেল মজুদের হিড়িক।   ছবি: আরটিএনএন

‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে মেহেরপুরে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক সংকটের অজুহাতে স্থানীয় বাজারে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুদের হিড়িক পড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​সরেজমিনে মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি। অনেককেই ড্রাম ভরে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদার তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​শহরের একটি পাম্পে তেল নিতে আসা কৃষক নয়ন হাসান বলেন, শুনলাম যুদ্ধ লেগেছে, জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। সামনে সেচ মৌসুম, তেল না পেলে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগেভাগেই কয়েক ড্রাম ডিজেল নিয়ে রাখছি।

 

IMG-20260305-WA0004-jpg

মেহেরপুর পৌরশহরের জেড ফিলিং স্টেশন নামের তেল পাম্পে এসেছে গাংনী উপজেলার বাসিন্দা হাসান মাহমুদ। সঙ্গে এনেছে ৩০ লিটারের একটি প্লাস্টিক ড্রাম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুদ্ধ যখন লেগেছে অবশ্যায় তেলের দাম বেড়ে যাবে। সেই জন্য আমার মোটরসাইকেলের জন্য ৩০ লিটার পেট্রল মজুদ করে রাখবো। 

​এদিকে, খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত করে তেল বিক্রির দোকানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও এখন অবৈধভাবে ড্রামজাত করে তেল মজুদ করা হচ্ছে। এতে বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪-এর তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, যা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে।

​জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক চাহিদার বিষয়ে স্থানীয় এক ফিলিং স্টেশনের মালিক রেজানুর বিশ্বাস বলেন, সরবরাহ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মানুষ আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনছে। আমরা সবাইকে বুঝিয়েও কাজ হচ্ছে না।

​বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মেহেরপুর একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এখানে সেচ কাজের জন্য বড় অঙ্কের জ্বালানি প্রয়োজন হয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আগেই স্থানীয় সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি না থাকলে এই মজুদদারি সাধারণ মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।

​এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ দেশে রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। অবৈধভাবে তেল মজুদ বা নির্ধারিত দামের বেশি রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।